দুর্যোগ
ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে এখনই নিন প্রস্তুতি: জানুন জীবন বাঁচানোর জরুরি পদক্ষেপ
বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরণের ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। তাই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং জীবন বাঁচাতে পূর্বপ্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তাই আসুন জেনে নিই ভূমিকম্পের আগে আমাদের করণীয় কী।
১. পারিবারিক জরুরি পরিকল্পনা: পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করুন। ভূমিকম্পের সময় কে কোথায় থাকবে, কীভাবে যোগাযোগ করবে এবং কোথায় মিলিত হবে, তা ঠিক করে রাখুন। বাড়ির বাইরে একটি নিরাপদ খোলা জায়গা (মিটিং পয়েন্ট) নির্ধারণ করুন।
২. ইমার্জেন্সি কিট বা জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখা: একটি মজবুত ব্যাগে অন্তত ৭২ ঘণ্টার জন্য শুকনো খাবার (চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট), পানি, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, ম্যাচ বা লাইটার, রেডিও, প্রয়োজনীয় ওষুধ, ফার্স্ট এইড কিট, হুইসেল, কিছু নগদ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফটোকপি (ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে) প্রস্তুত রাখুন। ব্যাগটি এমন জায়গায় রাখুন যেন সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়।
৩. ঘরবাড়ি নিরাপদ করা: বাড়ির ভারী আসবাবপত্র, আলমারি, বুকশেলফ এবং রেফ্রিজারেটর দেয়ালের সাথে ভালোভাবে আটকে রাখুন। দেয়াল বা সিলিং-এ ঝুলানো ভারী ছবি, আয়না বা শোপিস সরিয়ে ফেলুন, যেন এগুলো পড়ে আঘাত না লাগে।
৪. ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা: বাড়ির ভেতরের নিরাপদ জায়গাগুলো (যেমন—মজবুত টেবিল বা খাটের নিচে, দরজার চৌকাঠ) এবং ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো (যেমন—জানালার পাশে, ভারী আসবাবপত্রের নিচে) চিহ্নিত করে রাখুন।
৫. প্রাথমিক চিকিৎসা ও অগ্নিনির্বাপণ: পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা দিন। সম্ভব হলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (Fire Extinguisher) ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিন এবং বাড়িতে একটি রাখুন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মেইন সুইচ কোথায় আছে এবং কীভাবে বন্ধ করতে হয়, তা সবাইকে শিখিয়ে দিন।
৬. মহড়া (Drill): বছরে অন্তত দুবার পরিবার বা কর্মস্থলে ভূমিকম্পের সময় করণীয় (যেমন—ড্রপ, কাভার অ্যান্ড হোল্ড অন) নিয়ে মহড়া বা ড্রিলের আয়োজন করুন।
পূর্বপ্রস্তুতিই পারে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি থেকে আমাদের রক্ষা করতে।