আন্তর্জাতিক
গাজায় নামমাত্র যুদ্ধবিরতি: ৪৪ দিনে প্রায় ৫০০ বার লঙ্ঘন ইসরায়েলের, নিহত কয়েক শ ফিলিস্তিনি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর গত দেড় মাসে (৪৪ দিনে) ইসরায়েল অন্তত ৪৯৭ বার এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর গত শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অন্তত ৩৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, "ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী গুরুতরভাবে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।" বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটের সম্পূর্ণ দায় ইসরায়েলের।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামলা অব্যাহত
গাজা নগরী থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি এখন কেবল নামেই টিকে আছে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজাজুড়ে একাধিক বিমান হামলা চালানোয় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ইসরায়েলি সেনারা চুক্তির শর্ত ভেঙে গাজার গভীরে অবস্থান নেওয়ায় উত্তরের বহু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ত্রাণ প্রবেশে বাধা
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে জরুরি খাদ্য, ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশের অনুমোদন থাকলেও ইসরায়েল এখনো কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পাল্টাপাল্টি দাবি
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর দাবি করেছে, গাজায় ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাসের এক যোদ্ধা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা অভিযান চালায়। এতে হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্য নিহত হয়েছেন।
তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য ইজ্জাত আল-রিশেক বলেন, "ইসরায়েল যাঁদের নিহত হওয়ার কথা বলছে, তাঁদের নাম প্রকাশ করতে হবে। তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি এড়াতে নানা অজুহাত সৃষ্টি করছে এবং গণবিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।" তিনি মধ্যস্থতাকারী ও মার্কিন প্রশাসনকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক লঙ্ঘন
গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, শুধু গতকালই (শনিবার) ইসরায়েল ২৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এদিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮৭ জন আহত হয়েছেন।