নগরের বাইরে
সোনারগাঁয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণ: বার্ন ইনস্টিটিউটে আরও একজনের মৃত্যু, মোট নিহতের সংখ্যা ২
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমির হোসেন (২৫) নামে ওই যুবক মারা যান।
এ নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুইজনে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় শংকর (২৫) নামে দগ্ধ আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছিল।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. শাওন বিন রহমান আমির হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃত আমিরের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় তিনি গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন থাকা বাকি চারজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তারা সবাই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে বুধবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অবস্থিত মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে হঠাৎ এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ক্যান্টিনে থাকা মোট ১২ জন শ্রমিক ও কর্মকর্তা গুরুতর দগ্ধ হন।
দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। দগ্ধদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা তুলনামূলক কম গুরুতর হওয়ায় তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে বাকি ৬ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, যাদের মধ্যে গত দুদিনে দুইজনের মৃত্যু হলো।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপর দগ্ধরা হলেন— মনির হোসেন (৪৫), আল আমিন (৪০), নাজমুল আলম খান (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), কাউসার (৩০), তুহিন শেখ (৩০), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) ও বদরুল হায়দার (৫০)। চিকিৎসাধীন বাকি চারজনের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।