জনদুর্ভোগ
বন্দরে শিশু আলিফাকে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েই হত্যা, প্রতিবেশী ৩ ঘাতক গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১৩ বছরের শিশু আলিফাকে অপহরণের পর ধর্ষণের চেষ্টা চালায় মাদকাসক্ত প্রতিবেশী যুবকরা। শিশুটি বাঁচার জন্য চিৎকার শুরু করলে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ পুলিশের তদন্ত ও আসামির জবানবন্দির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযান ও গ্রেপ্তার:
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার রাত ও বুধবার দুপুরে বন্দর থানা পুলিশ, র্যাব ও পিবিআই-এর যৌথ প্রচেষ্টায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— দড়ি সোনাকান্দা এলাকার ফয়সাল ওরফে বাদশা (২৯), ইসমাইল (৪০) ও ইমন (২৫)। তারা সবাই নিহতের পরিবারের প্রতিবেশী এবং পেশাদার মাদকাসক্ত।
আদালতে স্বীকারোক্তি:
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ইয়াসির আরাফাতের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে স্বীকার করেছে যে, অপহরণের পর আলিফাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু শিশুটি চিনে ফেলায় এবং চিৎকার করায় তাকে তারা মিলে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে।
এলাকায় উত্তেজনা ও ভাঙচুর:
এদিকে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ফয়সাল গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা। বুধবার সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা ঘাতক ফয়সালের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে বাড়ির সামনে থেকে নিখোঁজ হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও রিকশাচালক মো. আলীর মেয়ে আলিফা। নিখোঁজের পরদিন সোমবার সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করেন আলিফার মা নাসিমা বেগম।
পুলিশের বক্তব্য:
ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ জানান, "গ্রেপ্তারকৃতরা সরাসরি এই পাশবিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তারা সমাজবিরোধী ও মাদকাসক্ত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের চার্জশিট দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।"