জনদুর্ভোগ
বক্তাবলীতে চলন্ত ফেরিতে ট্রাকের ধাক্কায় নদীতে ৫ যানবাহন, ৩ মরদেহ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ধলেশ্বরী নদীতে চলন্ত ফেরিতে থাকা একটি ট্রাকের ধাক্কায় ৫টি যানবাহন নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে ফতুল্লা থেকে বক্তাবলী ঘাটে যাওয়ার পথে মাঝনদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের পরিচয়:
নিহতরা হলেন—
১. মাসুদ রানা: সদ্য দেশে ফেরা সিঙ্গাপুর প্রবাসী। তিনি ড্রাইভিং শিখে বাড়ি ফিরছিলেন।
২. স্বাধীন: পেশায় ভ্যানচালক।
৩. রফিক: একজন গার্মেন্টস শ্রমিক ও মোটরসাইকেল আরোহী।
ঘটনার বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে যানবাহনভর্তি একটি ফেরি ফতুল্লা ঘাট থেকে বক্তাবলীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ফেরিটি মাঝনদীতে পৌঁছালে ফেরিতে থাকা একটি ট্রাক হঠাৎ চালু হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এতে ট্রাকের ধাক্কায় ফেরিতে থাকা ২টি ইজিবাইক, ১টি রিকশা, ১টি ভ্যানগাড়ি ও ১টি মোটরসাইকেল নদীতে পড়ে যায়। ট্রাকটিও একপর্যায়ে নদীতে তলিয়ে যায়।
নিহতদের পরিবারের আহাজারি:
নিহত রফিকের স্ত্রী পিংকি জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তান মিলে মোটরসাইকেলে করে ফতুল্লার ভোলাইল থেকে বক্তাবলীতে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন। ফেরিতে ট্রাকের ধাক্কায় তিনি ও তার দুই সন্তান ফেরির ওপর ছিটকে পড়লেও স্বামী রফিক মোটরসাইকেলসহ নদীতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা রফিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, মাত্র ২৫ দিন আগে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরা মাসুদ রানার মা পারভিন আক্তার বিলাপ করে বলেন, “মাসুদ ড্রাইভিং শিখে ফিরছিল। ফেরিতে উঠে স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলেছিল ‘বাসায় আসছি’। এরপর আর তার ফোন পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত ২টায় ছেলের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হলো।”
উদ্ধার অভিযান:
বক্তাবলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক রকিবুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও পাগলা কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত দেড়টার দিকে নদী থেকে প্রবাসী মাসুদ রানা ও ভ্যানচালক স্বাধীনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে হাসপাতালে নেওয়ার পথে গার্মেন্টস শ্রমিক রফিকের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, নদীতে তলিয়ে যাওয়া যানবাহনগুলো উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।