ফতুল্লায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ‘আমরা নির্দোষ, উদ্ধার করে মায়ের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি’ দাবি আল ফালাহ সংগঠনের
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগে সিজান (২২) নামে এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে অভিযুক্ত ‘আল ফালাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন’। সংগঠনটির দাবি, তারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে কোনোভাবেই জড়িত নয়; বরং বিক্ষুব্ধ বহিরাগত জনতার হাত থেকে সিজানকে উদ্ধার করে সুস্থ অবস্থায় তার মায়ের কাছে মুচলেকা রেখে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের কাছে এই দাবি করেন আল ফালাহ সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম মুফতি কাওছার কাসেমী।
‘সিজান চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী ছিল’
সংবাদ সম্মেলনে মুফতি কাওছার কাসেমী বলেন,
“নিহত সিজান এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী ছিলেন এবং তার কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। তাকে সংশোধনের জন্য আগে বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি ‘বায়তুস সাকাফাহ সমাজ কল্যাণ সংগঠন’-এর সহযোগিতায় তাকে ৪০ দিনের চিল্লাতেও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু ফিরে এসে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।”
তিনি দাবি করেন, শনিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সিজানকে ধরে তাদের কাছে নিয়ে আসে। নামাজ শেষে বিষয়টি দেখার কথা জানিয়ে সংগঠনের লোকজন মসজিদে গেলে উত্তেজিত জনতা সিজানকে মারধর করে। পরে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার মায়ের অনুরোধে মুচলেকা নিয়ে সুস্থ অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরকালে সিজানের কাছে সুইচ গিয়ার ও মাদকদ্রব্য পাওয়া গিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ভিডিওতে সংগঠনের কেউ নেই, কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ
সংগঠনের আরেক নেতা জিলানি ফকির বলেন, সিজানকে মারধরের যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে তাদের কোনো সদস্য জড়িত ছিলেন না। তারা তখন নামাজে ছিলেন এবং বহিরাগত ক্ষুব্ধ লোকজনই এই মারধর করেছে।
সংগঠনটির নেতাদের উল্টো অভিযোগ, সিজানকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে, তার বড় ভাই বাবুর নেতৃত্বে একটি ‘কিশোর গ্যাং’ আল ফালাহ সংগঠনের কার্যালয় ও আশপাশের দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। এর প্রতিবাদে তারা এলাকায় মিছিলও করেছেন। তারা সবসময় আইন মেনে কাজ করেন দাবি করে এই ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
যা বলছে পুলিশ
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগে সিজানকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
ওসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে।”