নারায়ণগঞ্জ প্রাইম জেনারেল হসপিটালের মালিককে হত্যার হুমকি ও গাড়িতে হামলা, থানায় পৃথক অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাইম জেনারেল হসপিটালের মালিক আল আমিন নুরকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অজ্ঞাত নম্বর থেকে হত্যার হুমকি
ভুক্তভোগী আল আমিন নুর জানান, গত ২০ মে রাত সোয়া ১০টার দিকে চাষাঢ়ায় অবস্থানকালে তার মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা নিজের পরিচয় গোপন রেখে তাকে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি ও হত্যার হুমকি দেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওই নম্বরে কলব্যাক করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মাসদাইরে মাইক্রোবাসে মুখোশধারীদের হামলা
ফোনে হুমকির রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৭ জুন রাত সোয়া ৩টার দিকে শহরের মাসদাইর এলাকায় আল আমিনের ব্যক্তিগত মাইক্রোবাসে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আল আমিনের শ্বশুর কামাল হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাড়িটি নিয়ে কামাল হোসেন যখন বাড়িতে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ তিন মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে গাড়ির গতিরোধ করে। তারা মাইক্রোবাসটির সামনের গ্লাসসহ বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কোপ দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালক কামাল হোসেন দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে সেখান থেকে চলে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি ও তার স্ত্রী শীলা আহমেদ পুনরায় বাড়িতে ফেরেন।
থানায় অভিযোগ ও তদন্তের দাবি
এ ঘটনায় কামাল হোসেন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার পরিবার এবং মেয়ে-জামাইয়ের (আল আমিন নুর) জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
আল আমিন নুর বলেন:
"দুর্বৃত্তরা হয়তো ধারণা করেছিল আমি গাড়ির ভেতরে আছি। এর আগেও এই গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় আমাকে লক্ষ্য করে অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন গাড়িতে আমার পরিবর্তে আমার শ্বশুর ও শাশুড়ি ছিলেন। কারা আমার ক্ষতি করতে চাচ্ছে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। পুলিশ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনুক, এটাই আমার দাবি।"
ফোনে হুমকি এবং পরবর্তীতে সশরীরে এই সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে আল আমিন নুরের পুরো পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।