পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটা নিয়ে বিতর্ক: দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, কাজ স্থগিত
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পিলারের গোড়া থেকে এভাবে মাটি কাটার ফলে পুরো সেতুটি এখন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
প্রভাবশালী মহলের দাপট ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল মাটি কাটার অনুমতি সংক্রান্ত একটি কাগজ দেখিয়ে পিলারের গোড়ার মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে। এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে তিনি ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সেতুটি রেলওয়ের সম্পত্তি হলেও এর নির্মাণ ও প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যারা মাটি কাটছেন, তাদের দাবি—প্রকল্পের নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত চীনা কোম্পানি (চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি) থেকে তারা মাটি কাটার ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছেন এবং এটি প্রকল্পেরই একটি অংশ। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।
রেলওয়ে ও প্রকল্প কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
এই মাটি কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট সমন্বয়হীনতা ফুটে উঠেছে:
- বাংলাদেশ রেলওয়ের বক্তব্য: বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে কখনো এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিচ থেকে মাটি কাটার অনুমোদন দেয় না। রেলওয়ে থেকে এমন কোনো কাজের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
- রেল সংযোগ প্রকল্পের বক্তব্য: অন্যদিকে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উপপরিচালক আমিনুল করিম ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ফতুল্লার আলীগঞ্জে ৭৬ নম্বর থেকে ৯০ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই জায়গাটি আগে জলাশয় ছিল। চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান) প্রথমে মাটি ও বালু দিয়ে এই স্থানটি ভরাট করে ভায়াডাক্ট নির্মাণকাজ শেষ করেছিল। এখন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ঐ অঞ্চলে আগের মতো করেই পুনরায় জলাশয় খনন করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
প্রকল্পের স্বার্থে জলাশয় খনন নাকি প্রভাবশালীদের মাটি বিক্রির পাঁয়তারা—এই দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের মনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের দুরকম বক্তব্যের কারণে প্রকল্প তথ্যের সমন্বয়হীনতা প্রকটভাবে সামনে এসেছে। তবে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে উক্ত স্থানে সব ধরনের মাটি কাটার কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।