বন্দরে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, সংকটে আরও ২
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় আবাসিক লাইনের লিকেজ থেকে জমা হওয়া গ্যাসের বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতদের মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় দাফন করা হয়েছে বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেছেন।
সর্বশেষ আজ সোমবার (১৫ জুন) ভোর পৌনে পাঁচটায় ঢাকা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান সবজি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান (৫০)। এর মাত্র ৫ ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে সিয়াম। এর আগে, গত ১২ জুন (শুক্রবার) দুপুরে মারা যান আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সুলতানা (৩৫)।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) সকালে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন এবং প্রতিবেশী এক শিশুসহ মোট ৫ জন গুরুতর দগ্ধ হন। ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে সুলতানার শরীরের ৯০ শতাংশ, আব্দুল মান্নানের ৩৫ শতাংশ এবং সিয়ামের ৭৭ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে একই হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই পরিবারের অপর সদস্য ১৩ বছর বয়সী শিশু মিম। তার শরীরের ৪১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া ৮ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী (৮)।
বিস্ফোরণের কারণ ও ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য:
ঘটনার বিষয়ে কাঁচপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ওই বাড়িটিতে তিতাসের গ্যাস লাইনের পাশাপাশি সিলিন্ডারের সংযোগও ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে রান্নাঘরে লাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে ছিল। সকালে রান্নার জন্য আগুন জ্বালাতেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে লিকেজের মূল উৎস সুনির্দিষ্টভাবে জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসাধীন বাকি দুজনের জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকরা।