ফতুল্লায় হোসিয়ারী ব্যবসায়ী হারুন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২: লুটের টাকা ও মোবাইল উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হোসিয়ারী ব্যবসায়ী মোঃ হারুন খালাসী হত্যাকাণ্ডের ক্লু-লেস মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উদঘাটন করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং লুটের নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো— মোসাঃ মীম (২০) ও মোঃ রানা হোসেন (২৪)। গত বুধবার (২৭ মে) ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুজনই নিহতের হোসিয়ারী কারখানার শ্রমিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যেভাবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়:
পুলিশের তদন্ত ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ক্ষোভের জেরে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গত ২৬ মে (মঙ্গলবার) শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য কারখানায় নগদ টাকা রেখেছিলেন ব্যবসায়ী হারুন খালাসী। সুযোগ বুঝে আসামিরা প্রথমে চায়ের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করে। পরে কারখানায় থাকা কাপড় বাঁধার গার্ডার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
হত্যাকাণ্ড শেষ করে শ্রমিকদের বেতনের জন্য রাখা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং নিহতের ৩টি মোবাইল ফোন নিয়ে কারখানার অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতকেরা।
যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ:
ঘটনার দিন বিকেলে নিহতের মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে সন্দেহজনক বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হয়। এতে পরিবারের লোকজনের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তারা দ্রুত কারখানায় গিয়ে অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হারুন খালাসীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের তৎপরতা ও মামলা দায়ের:
ঘটনার পর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার লামাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মীম ও রানাকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে লুট হওয়া টাকার একটি বড় অংশ এবং মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়। অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।