মহানগর
হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন ইস্যুতে গণসংহতি নেতা অঞ্জনের ‘দ্বি-মুখী’ নীতি: ফুঁসে উঠছে নগরবাসী
নারায়ণগঞ্জের হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা অঞ্জন দাসের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নেওয়া তাঁর বিপরীতমুখী অবস্থানকে সাধারণ মানুষ ‘রাজনৈতিক কৌশল’ বা ‘দ্বি-মুখী নীতি’ হিসেবে দেখছেন, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৩ এপ্রিল। সেদিন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় চাষাঢ়ার জিয়া হলের সামনে উপস্থিত ছিলেন অঞ্জন দাস। সেখানে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালীন সমাবেশে তাঁর অংশগ্রহণ বা সংহতি প্রকাশ অনেককে বিস্মিত করেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে উচ্ছেদের সময় সেখানে উপস্থিত থেকে তিনি পরোক্ষভাবে বা সরাসরি প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সমর্থন করেছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
ঠিক তার সাত দিন পর, ২০ এপ্রিল, একই অঞ্জন দাসকে দেখা গেল ভিন্ন রূপে। সেদিন তিনি হকারদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে এবং পুনর্বাসনের দাবিতে আয়োজিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন। এই দুই দিনের দুটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ, হকারদের মতো একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে রাজনৈতিক নেতাদের এমন স্ববিরোধী অবস্থান কাম্য নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, “হকারদের রুটি-রুজির বিষয় নিয়ে কোনো রাজনীতি করা উচিত নয়। এক অনুষ্ঠানে উচ্ছেদ সমর্থন করে আবার অন্যদিন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া—এটি সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার শামিল।”
অনেকেই মনে করছেন, হকারদের আবেগ ও দাবিকে কেন্দ্র করে নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি যাই হোক, নারায়ণগঞ্জবাসীর দাবি—উচ্ছেদ কিংবা পুনর্বাসন যেটাই হোক না কেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবস্থান স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক হওয়া উচিত। হকারদের দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে কোনো ‘রাজনৈতিক নাটক’ নয়, বরং কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানই এখন নগরবাসীর প্রত্যাশা।