জাতীয়
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে চলছে ‘পাপমুক্তির’ স্নানোৎসব
নারায়ণগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের চলছে ‘পাপমুক্তির’ মহাৎসব সনাতন ধর্মালম্বীদের ‘মহাঅষ্টমী স্নান’। প্রতিবছর ন্যায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পুর্ণার্থী স্না-্নোৎসবে অংশগ্রহণ করতে সমবেত হয়েছে বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে। তাদের বিশ্বাস, শুক্লাঅষ্টমী তিথিতে ব্রহ্মপুত্রে স্নানের মাধ্যমে পাপমোচন ঘটে এবং ব্রহ্মার সন্তুুষ্টি লাভ করা যায়।
বুধবার বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে তিথি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য, আমার পাপ হরণ করো’ মন্ত্র উচ্চারণ করে লাঙ্গলবন্দের ২৪টি ঘাটে স্নানোৎসব শুরু করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। যা শেষ হবে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে।
এর আগে সকাল থেকে লাঙ্গলবন্দে বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে ভীর করতে থাকেন পুণ্যার্থীরা। স্ননোৎসবকে কেন্দ্র করে লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার জুড়ে বসেছে ঐতিহাসিক বারোয়ারি মেলা। মেলায় ত্রিশুল হাতে দুই শিশুকে দেখা যায় শিবের সাঁজে। অনেক পুণ্যার্থীকে তাদের কাছ থেকে আর্শিবাদ নিতেও দেখা যায়।
পৌরাণিক বর্ণনা মতে, ত্রেতা যুগে মুনি পরশুরাম পিতার আদেশে তার মায়ের শিরচ্ছেদ করেন। মাতৃহত্যার পাপের কারণে তার কুঠারি হাতের লেগে যায়। পরে শিবের তপস্যার মাধ্যমে হিমালয়ের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন নদীতে চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে স্নান করে পাপমুক্ত হন। সেই পুণ্য বারিধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে পরশুরাম লাঙ্গলে সেই জলধারা নিয়ে আসেন। তার লাঙ্গল যেখানে সে বন্ধ হয় সেই থেকে নাম হয় ‘লাঙ্গলবন্দ’।
সেই থেকে শত শত বছর ধরে এই ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ‘পাপমুক্তির’ আশায় দেশবিদেশের লাখো সনাতন ধর্মালীম্বী স্ননোৎসবে সমবেত হয়ে আসছেন।
পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “পূর্ণার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দুই শিফটে আমাদের প্রায় ১১০০ পুলিশ ফোর্স কাজ করবে। ট্রাফিকের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আনসাররাও সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি স্নান করতে গিয়ে কেউ ডুবে যাতে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য নৌ পুলিশ কাজ করবে।”
এছাড়া পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, “প্রচুর জনসমারোহ হয়েছে। আমাদের ২৪ টা ঘাটে পুণ্যার্থীরা স্নান করছেন। এবার চারটি নতুন ঘাট বানানো হয়েছে এবং প্রতিটি ঘাটে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল আছে। সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের নেওয়া আছে। আমরা আশা করি সুন্দরভাবে স্নানটা শুরু হয়েছে কালকে তিনটা পর্যন্ত লগ্ন আছে কোন সমস্যা হবে না।”