সাক্ষাৎকার
বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ
বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের স্মৃতিচারণ
নারায়ণগঞ্জ ভয়েস।। মাহমুদ কাওসার
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আজও বুকে ধারণ করে চলেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজান। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন গোদনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। তখন তাঁর বাড়ি ছিল বর্তমান ২নং ঢাকেশ্বরী স্ট্যান্ড এলাকায়। দেশমাতৃকার মুক্তির টানে কৈশোর বয়সেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই নিজের বাড়ি থেকে ২০ মণ চাল বিক্রি করেন এহসান কবির রমজান। সেই অর্থ নিয়েই ভারতের প্রশিক্ষণ শিবিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি। সহযোদ্ধা মতিন ভাই, রোশন আলী, জয়নাল আবেদীন, আলী হোসেন (কমান্ডার) ও খোরশেদ আলমের সঙ্গে নদী পার হয়ে পায়ে হেঁটে কাইকারটেক হয়ে ভারবির রামকৃষ্ণপুরে পৌঁছান। সেখান থেকেই লঞ্চযোগে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।
যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে তিনি খবর পান—পাকিস্তানি বাহিনী পালিয়ে যাচ্ছে, দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। প্রথমে এ খবর বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি। এত দ্রুত দেশ স্বাধীন হবে, তা কল্পনাতীত ছিল। তবে নিশ্চিত হওয়ার পর এক দৌড়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। স্বাধীন দেশের আলো প্রথম দেখার সেই মুহূর্ত আজও তাঁর স্মৃতিতে অমলিন।
স্বাধীনতার এত বছর পর দাঁড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজান বাস্তবতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি মনে করেন—দেশ যতটুকু এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, ততটা এগোতে পারেনি। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, বৈষম্য দূরীকরণ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছি।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়া। সেই স্বপ্ন পূরণে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজানের এই স্মৃতিচারণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত গল্প নয়, এটি ১৯৭১ সালের অগণিত তরুণের ত্যাগ, সাহস ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি—যাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।