নারায়ণগঞ্জে অজ্ঞাত ও অসহায় রোগীদের জন্য বিশেষ ইউনিটের দাবি টিম খোরশেদের
নারায়ণগঞ্জের রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা অজ্ঞাত, অসহায় ও পরিচয়হীন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালে বিশেষ ইউনিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে। জেলার দুইটি প্রধান সরকারি হাসপাতালের যেকোনো একটিতে জরুরি ভিত্তিতে ২/৩ শয্যার একটি বিশেষ ইউনিট চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন মানবিক সংগঠন ‘টিম খোরশেদ’ এবং নাগরিক সংগঠন ‘ওয়ার্কিং ফর বেটার নারায়ণগঞ্জ’-এর আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক (ডিসি), সিভিল সার্জন এবং নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, "গত ৫ বছর যাবৎ আমরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে রাস্তায় পড়ে থাকা পরিচয়হীন অসহায় মানুষকে সাধ্যানুযায়ী চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। এসব মানুষ সাধারণত অত্যন্ত নোংরা ও অবহেলিত অবস্থায় থাকে। এমনকি অনেকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরা জখমও থাকে। যার কারণে অনেক সময় সাধারণ হাসপাতালগুলো তাদের ভর্তি নিতে অনীহা প্রকাশ করে।"
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "হাসপাতাল প্রশাসনের মতে, এ ধরনের রোগী সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি নিলে অন্য সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও পরিবেশ ব্যাহত হয়, যা অনেকাংশেই সত্য। কিন্তু প্রতিটি মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়া তার মৌলিক ও নাগরিক অধিকার। এই বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি, নারায়ণগঞ্জের দুইটি সরকারি হাসপাতালের যেকোনো একটিতে মাত্র ২ থেকে ৩টি বেডের একটি আলাদা বিশেষ ইউনিট স্থাপন করলেই এই সংকটের স্থায়ী ও মানবিক সমাধান সম্ভব।"
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারিভাবে এই বিশেষ ইউনিট চালু করা হলে অসহায় ও অজ্ঞাত রোগীদের পরিচর্যা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তা প্রদানে ‘টিম খোরশেদ’ এবং ‘ওয়ার্কিং ফর বেটার নারায়ণগঞ্জ’ মাঠপর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ এই মানবিক আবেদনে সাড়া দিলে নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় পড়ে থাকা শত শত পরিচয়হীন ও মুমূর্ষু মানুষের জীবন রক্ষা পাবে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।