লাখ লাখ কণ্ঠের ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হলো হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা
পবিত্র মক্কার কাবা শরীফ তাওয়াফ শেষে লাখ লাখ মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের মিনায় গমনের মধ্য দিয়ে আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বৈশ্বিক নানা সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি আল্লাহর মেহমান এখন তাঁবুর শহর খ্যাত মিনায় অবস্থান নিচ্ছেন।
আজ ৮ জিলহজ হজের প্রথম দিন, যা 'ইয়াওমুত তারবিয়াহ' নামে পরিচিত। হাজিরা ইহরাম বেঁধে মক্কা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। আজ সারাদিন এবং রাত তারা মিনায় অবস্থান করবেন। সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (যোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরদিনের ফজর) আদায় করা এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা হজের অন্যতম সুন্নত।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে তীব্র গরম ও ভিড় সামাল দিতে মিনা এবং আরাফাতের ময়দানে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।
৯ জিলহজ (২৬ মে, মঙ্গলবার): হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কাজ ‘আরাফাতের ময়দানে অবস্থান’। আগামীকাল সকালে হাজিরা মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সমবেত হবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন। এরপর রাতে তারা মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন ও কঙ্কর সংগ্রহ করবেন।
১০ জিলহজ (২৭ মে, বুধবার): ১০ জিলহজ সকালে মিনায় ফিরে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি দেওয়া এবং মাথা মুণ্ডন করার মধ্য দিয়ে ইহরামের বিধি-নিষেধ শিথিল করবেন হাজিরা। এরপর মক্কায় গিয়ে ‘তাওয়াফে জিয়ারত’ সম্পন্ন করবেন। এই দিনই সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা এই বিপুল সংখ্যক মুসলিম উম্মাহর মহামিলন যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে মক্কা ও মিনার প্রবেশপথগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে সৌদি প্রশাসন।