নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক ছাত্রদল নেতাকে ছাত্রলীগ নেত্রী তিন্নির চড়! তোলপাড়
নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে প্রকাশ্যে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের কথিত জিএস ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী নুরুন্নাহার তিন্নির বিরুদ্ধে।
গতকাল রবিবার (২৪ মে) দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সামনেই এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনজীবী পাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, "কিছুদিন আগে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, যেখানে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠদের স্থান দেওয়া হয়েছে। আমি এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। এরই জেরে রবিবার দুপুরে ওই কমিটির কথিত জিএস তিন্নি কোর্ট প্রাঙ্গণে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর সামনেই আমার গায়ে হাত তোলেন।"
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল এবং নুরুন্নাহার তিন্নি ছিলেন সেই রাজত্বের অন্যতম অংশীদার। তবে গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি খোলস পাল্টে ফেলেন এই ছাত্রলীগ নেত্রী। নিজেকে ছাত্রদলের 'ত্যাগী কর্মী' হিসেবে জাহির করে অতি দ্রুত পুরস্কারও বাগিয়ে নেন। ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছাড়াই ঘোষিত আইন কলেজের নতুন কমিটিতে তিনি জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদ লাভ করেন। আইন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ কলেজের এমন চলমান অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের কমিটি গঠন করতে হলে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজে সেই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ৬ মে বুধবার ২৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত ওই কমিটিতে খন্দকার মো: সাদ্দাম হোসেনকে ভিপি, নুরুন্নাহার তিন্নিকে জিএস এবং হুসাইন মোহাম্মদ অন্তরকে এজিএস করা হয়।
বিতর্কিত এই কমিটির অনুমোদনের কাগজে দুটি স্বাক্ষর দেখা গেছে। যার একটি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর এবং অন্যটি আইন কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়ার। ঘটনার সময় বিএনপির এই শীর্ষ নেতার সামনেই ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটায় সাধারণ কর্মীদের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে নির্বাচন ছাড়া কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির ভিপি খন্দকার সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কলেজ প্রশাসন তার ক্ষমতাবলে নির্বাচন ছাড়াই ছাত্র সংসদের কমিটি গঠন করতে পারে। আমাদের কমিটিও সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই গঠন করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এই কমিটি কার্যকর থাকবে।"