মেয়র নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে জনগণের চাপ আছে: সিরাজুল মামুন
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন বলেছেন, দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে স্থানীয় জনগণ চান তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী নন।
বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় শহরের জামতলায় অবস্থিত মজলিস কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল মামুন বিগত নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর গভীর সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল, কিন্তু এখন দলীয় সরকার রয়েছে। এ কারণে নির্বাচন নিয়ে আমাদের মনে সংশয় রয়েছে।”
বিগত সিটি নির্বাচনের স্মৃতিচারণ ও বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেয়াল ঘড়ির পক্ষে একটি বড় ধরনের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। অথচ ওই সময় যেভাবে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে আমরা চিন্তিত। বর্তমানে সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দলীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে নিজের ও জনগণের অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক সহকর্মী এবং নারায়ণগঞ্জবাসী চান আমি মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি আগ্রহী নই এবং এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
নির্বাচনী জোট ও সমমনা দলগুলোর ঐক্য প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আমরা এখনো ১১ দল হিসেবে আছি এবং ঐক্যে বিশ্বাসী। ১১ দলের বাইরেও কিছু দল রয়েছে, যেমন ইসলামী আন্দোলন। তারা আলাদা হলেও আমাদের সহযোগী সংগঠন। আমরা সবার সঙ্গেই কথা বলব। বর্তমান পরিস্থিতিতে এককভাবে নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, জাতীয় স্বার্থও তা সমর্থন করে না। আমরা চাই দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রেমী শক্তিগুলো একসঙ্গেই নির্বাচনে অংশ নিক।”
জনগণের আবেগ ও প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একটি আবেগঘন মুহূর্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “মাসদাইরে এক ব্যক্তি আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছিলেন। তাঁকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আপনাকে আমরা (মেয়র বানাতে) পারলাম না।’ নারায়ণগঞ্জবাসীর অনেকের মধ্যেই এই ব্যথা ও যন্ত্রণা রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে খেলাফত মজলিসের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।