নগরের বাইরে
ফতুল্লায় গ্যাস চুরির দায়ে কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন: ঘণ্টায় চুরি হতো ১২ হাজার ঘনফুট গ্যাস
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে 'প্যাটার্ন ফিনিশিং' নামের একটি ডাইং কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি ভিজিল্যান্স টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফতুল্লা রেললাইন বটতলা এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে অভিযান চালায় তিতাস কর্তৃপক্ষ। অভিযানের নেতৃত্ব দেন তিতাস গ্যাসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মঞ্জুর আজিজ মোহন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে গ্যাস চুরির সাথে জড়িতরা সাধারণত দিনের বেলায় সতর্ক থাকে এবং রাতে কার্যক্রম চালায়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে তিতাস গ্যাসের ভিজিল্যান্স টিম ফজরের নামাজের পরপরই অভিযান শুরু করে।
পরিদর্শনকালে কারখানার আরএমএস (RMS) রুমটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তবে সরু ফাঁক দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, কারখানার মেকানিক্যাল মিটারে তিনটি শক্তিশালী চুম্বক (ম্যাগনেট) ব্যবহার করা হয়েছে, যা মিটারকে ধীরগতিতে ঘুরতে বাধ্য করছিল। এছাড়া ইবিসি মিটারের পালসও বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট গ্যাস চুরি করা হচ্ছিল। অভিযুক্ত মিটারটি কর্তৃপক্ষ খুলে নিয়েছে এবং নীতিমালা অনুযায়ী বকেয়া বিল ও জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানাটি আমজাদ হোসেন মোল্লার নামে নিবন্ধিত হলেও বর্তমানে এটি ভাড়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযানের সময় তিতাস গ্যাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—
প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, জোনাল ম্যানেজার, ফতুল্লা জোন।
প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান আজাদ, জোনাল ম্যানেজার, নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল।
শাহ এমদাদ হোসেন, জরুরি ব্যবস্থাপক।