মহানগর
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ৪৫ বছর পূর্তি ও নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি: ১১ উপকমিটি গঠন
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের ৪৫ বছর পূর্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) শহরের আলী আহামদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়তনের ৫ম তলার পরীক্ষণ হলে চার দিনব্যাপী আয়োজন সফল করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় জোটভুক্ত ২৬টি সংগঠনের অর্ধশতাধিক সংগঠক, সদস্য ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি ও সফল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ভবানী শংকরকে আহ্বায়ক এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরীনকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
এছাড়াও অর্থ, সাজসজ্জা, আপ্যায়ন, অভ্যর্থনাসহ মোট ১১টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এসব উপকমিটির দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন বলে জানান।
সভা থেকে জানানো হয়, বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে জোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। একই দিন ও দ্বিতীয় দিনে সাংস্কৃতিক আয়োজন, তৃতীয় দিনে লালন সংগীত এবং চতুর্থ দিনে নাট্য পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মীসভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থ, যিনি সভায় সভাপতিত্বও করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি সংগঠনের ইতিহাস, বিকাশ ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ভূমিকা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, “আমরা কখনো কোনো সরকারের তাবেদার ছিলাম না—শিরদাঁড়া উঁচু করে সবসময় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। ১৯৮৩ সালের একুশ উদযাপন থেকে শুরু করে এরশাদের শাসনামল, খালেদা জিয়া কিংবা আওয়ামী লীগের সময়—প্রতিটি পর্যায়েই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। গান, পথনাটক, মঞ্চ—সবকিছু দিয়েই আমরা লড়াই চালিয়ে গেছি। বাধা এসেছে, মঞ্চ ভাঙা হয়েছে, মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তবুও থামিনি।”
তিনি আরও বলেন, “সংস্কৃতি কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হতে পারে না। সময়ের সঠিক মূল্যায়ন ও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। স্বাধীন চিন্তা, প্রতিবাদী কণ্ঠ এবং আপসহীন অবস্থানই আমাদের আন্দোলনের মূল শক্তি।”
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে ‘নারায়ণগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’ নামে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট’ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।