মহানগর
গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে জনগণই প্রতিহত করবে: মাওলানা আব্দুল হালিম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, “বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী গণভোটকে উপেক্ষা করছে, যা জনগণের প্রতি অবমূল্যায়ন এবং তাদের রায়ের প্রতি অশ্রদ্ধার শামিল।
তিনি বলেন, “দেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষ গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু তথাকথিত সংবিধান সংশোধনের নামে কালক্ষেপণ করে ‘জুলাই স্পিরিট’কে বিলুপ্ত করার জন্য নানা অপকৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে।”
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৮টায় নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, সরকারি দল গণভোটের ফলাফল উপেক্ষা করায় বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২ থেকে ১৩টি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করতে পারে। এসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “অতীতের ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে চাই না। সরকার যদি এসব অধ্যাদেশ বাতিল করে দলীয়করণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তা প্রতিহত করবে।”
তিনি বলেন, সংস্কার পরিষদের প্রস্তাবিত অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে উত্থাপন ও অনুমোদনের মাধ্যমে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে- যে বাংলাদেশ হবে আত্মত্যাগীদের স্বপ্নের প্রতিফলন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মমিনুল হক এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো. হাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর মাওলানা আব্দুল জাব্বার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ মো. মুন্না এবং তারবিয়াত সেক্রেটারি অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস।
সভাপতির বক্তব্যে মমিনুল হক বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, ইউনিট বৃদ্ধি এবং কর্মী সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীকে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত পাঁচ শতাধিক সদস্য ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।