মহানগর
জুলাই বিপ্লবের চেতনা উপেক্ষিত হচ্ছে: নারায়ণগঞ্জে অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম খান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল আলম খান বলেছেন, মুখে জুলাই সনদ মানার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা উপেক্ষিত হচ্ছে। আইনি বিতর্ককে অপ্রয়োজনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক জুলাই বিপ্লব—কোনোটিই প্রচলিত আইন মেনে সংঘটিত হয়নি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গুম ও মানবাধিকার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। সংসদে সরকারের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় (‘ব্রুট মেজরিটি’) এসব প্রস্তাব সহজেই পাস হয়ে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সাইফুল আলম খান বলেন, “জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত না হওয়ায় জাতি আজ হতাশ। প্রশ্ন উঠছে—কেন এত রক্ত ঝরল, কেন এত মানুষ প্রাণ দিল।”
তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) দেওয়া হয়েছে এবং সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ে জামায়াত ও ১১ দল আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজপথ আর রক্তাক্ত হবে না।
তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ করার অর্থ সংঘর্ষ নয়; বরং জনগণের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের ভাষা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।” একই সঙ্গে তিনি একটি নতুন যাত্রার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে যেন আর বিশ্ববাসীর কাছে হতাশ হতে না হয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই চার্টার গ্রহণ না করা হলে এবং প্রস্তাবিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হলে আত্মত্যাগগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে এবং জাতির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মমিনুল হকের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ মো. মুন্না এবং তারবিয়াত সেক্রেটারি অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস।
সভাপতির বক্তব্যে মমিনুল হক বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, ইউনিট বৃদ্ধি ও কর্মী বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীকে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত পাঁচ শতাধিক সদস্য ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।