মহানগর
বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ: নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়ত সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনাস্থা
নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদৌসের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া এবং বিগত জাতীয় নির্বাচনের সময় রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নেতৃবৃন্দের অভিযোগ:
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা ফেরদৌস দীর্ঘ দিন ধরে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে জেলা সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও সংগঠনের নীতি-আদর্শের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
নির্বাচনী ভূমিকায় প্রশ্ন:
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে বিগত নির্বাচনের সময় তার ভূমিকা নিয়ে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, নির্বাচনের সময় যখন রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার কথা ছিল, তখন মাওলানা ফেরদৌস ছিলেন একেবারেই নিস্পৃহ। তার এই রহস্যজনক নীরবতা এবং নিষ্ক্রিয়তা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং সাধারণ কর্মীদের মনে ক্ষোভের দানা বেঁধেছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
বর্তমানে জেলা জমিয়তের একটি বড় অংশ তার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, "যিনি দুঃসময়ে দলের পাশে থাকেন না এবং যার কর্মকাণ্ডে সংগঠনকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।"
আগামী পদক্ষেপ:
মাওলানা ফেরদৌসের বিরুদ্ধে এই গণ-অনাস্থার প্রেক্ষিতে দ্রুতই জেলা কমিটির বিশেষ বর্ধিত সভা ডাকার দাবি উঠেছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পেশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন নারায়ণগঞ্জের উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ নেতাকর্মীরা।